ব্রান্ডিং এর ক্ষেত্রে টুইটার এর কার্যকরী বিষয় সমূহ

Twitter Functional Issues in Branding

Twitter Functional Issues in Branding

বর্তমান ইন্টারনেটের যুগে সোশ্যাল মিডিয়ার পাওয়ার আমরা সবাই জানি। ফেসবুক, টুইটার, ইন্সটাগ্রামের জনপ্রিয়তা এত বেশি যে এখন সোশ্যাল মিডিয়া ব্যবসায়ের এবং মার্কেটিং এর ক্ষেত্র হিসেবে তৈরি হয়েছে। আন্তর্জাতিক ব্যবসায় হোক আর লোকাল ব্যবসায় সবাই সোশ্যাল মিডিয়ারকে ব্যবহার করছে।

সোশ্যাল মিডিয়ার মধ্যে সবচেয়ে পরিচিত যে নাম গুলো রয়েছে তাদের মধ্যে অন্যতম টুইটার। এটি পৃথিবীকে ছোট করে তুলেছে এবং আমাদের সবার মাঝে সহজে সংযোগ সৃস্টি করে দিয়েছে। টুইটারকে একটি কার্যকরী টুলও বলা যায়, যা দিয়ে আপনি আপনার ব্যবসায়ের মার্কেটিং এর কাজ সুন্দর ভাবে এবং লাভজনক ভাবে করতে পারবেন। Samsung, Starbucks, PlayStation এর মত বড় বড় ব্যান্ড আজ মার্কেটিং এর জন্য টুইটার ব্যবহার করছে। এখন প্রশ্ন হচ্ছে কিভাবে টুইটারে সফলভাবে মার্কেটিং করা যায়?

twitter-tips-moshiur-monty-digital-marketing-trainer-bangladesh

১. পরিকল্পনাঃ

টুইটার মার্কেটিং করার পূর্বে অব্যশই আপনাকে যা করতে হবে তা হল পরিকল্পনা। আপনি কেন টুইটারকে মার্কেটিং করার জন্য বেছে নিয়েছেন? এখানে কে আপনার কাস্টমার, কিভাবে আপনি তাদের সাথে যোগাযোগ করবেন? এই সকল বিষয়গুলো আগেই ভাবতে হবে, জানতে হবে এবং তারপর আপনার মার্কেটিং পরিকল্পনা তৈরি করতে হবে। শুধু টুইটার না সকল সোশ্যাল মিডিয়াতে মার্কেটিং করতে এই বিষয় গুলো প্রথমেই ভাবতে হয়। শুধু একাউন্ট করলাম আর পোস্টিং শুরু করলাম তাহলে মার্কেটিং হবে না। একবার আপনি একটি মার্কেটিং পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করলে সেটি আবার পুনরায় ব্যবহার করতে পারবেন।

২. প্রতিজ্ঞাবদ্ধ থাকাঃ

টুইটার হচ্ছে একটি ক্যাম্পের মত। যেখানে আপনাকে আপনার কার্যক্রমে প্রতিজ্ঞাবদ্ধ থাকতে হবে, নতুন ফ্রেন্ড (ফলোয়ার) তৈরি করতে হবে ঠিক যেমন আমরা একটি ক্যাম্পে করে থাকি। আপনি যদি কাস্টমারদের ইচ্ছা, পছন্দ, অপছন্দ সম্পর্কে না জানেন তাহলে টুইটার মার্কেটিং -এ সফল হতে পারবেন না। কারণ এখানে ছোট কথা এর মাধ্যমে পোষ্ট করতে হয় তাই সুযোগ কম থাকে অনেক কিছু বলার মাধ্যমে কাস্টমারকে খুশি করার। তাই আপনাকে টুইটারে নিয়মিত থাকা এবং টুইটারের সকল কার্যক্রম পরিচালনার প্রতি প্রতিজ্ঞাবদ্ধ থাকতে হবে।

৩. ব্যান্ডকে প্রচার করাঃ

টুইটারে আপনার সকল কিছু হবে ব্যান্ড সম্পর্কিত। আপনার টুইট, রিটুইট, লাইক সকল কিছু হওয়া উচিত ব্যান্ডকে কেন্দ্র করে। তাছাড়া কাস্টমার আপনার ব্র্যান্ডের কোন বিষয়টি গ্রহণ করেছে কোনটি গ্রহণ করছে না, তারা আপনার থেকে কি আশা করছে ইত্যাদি জানতে হবে এবং সে বিষয় গুলোর উপর আপনি টুইট করবেন। আপনি যদি টুইটারের সকল কার্যক্রম ব্র্যান্ড সম্পর্কিত করেন তাহলে আপনার ব্যান্ড এর নাম ছড়াবে । ব্যান্ড এর প্রচার এর জন্য টুইটে লোগো যুক্ত ছবি, প্রোডাক্টের ছবি ইত্যাদি ব্যবহার করতে পারেন।

৪. ইন্ডাস্ট্রি লিডারদের অনুসরণ করাঃ

টুইটার এর সবচেয়ে চমৎকার দিক হচ্ছে আপনি যাকে ইচ্ছা ফলো করতে পারবেন। এর ফলে আমরা সহজে বিভিন্ন হাই প্রোফাইল ব্যক্তিদের ফলো করতে পারি। যাদের থেকে আমরা অনেক কিছু জানতে পারি। তাই আপনাদের উচিত আপনাদের নিশ বা ইন্ডাস্ট্রির উপর যারা লিডার (অভিজ্ঞ) রয়েছে তাদের ফলো করা। তাহলে ইন্ডাস্ট্রি সম্পর্কে অনেক নতুন নতুন তথ্য পাবেন। শুধু তাই নয় তাদেরকে প্রাসঙ্গিক বিষয়ে প্রশ্ন করলে তারা উত্তর দিয়ে থাকে। এতে তাদের সাথে আপনার সুসম্পর্ক তৈরি হবে। তাদের সাথে যোগাযোগের মাধ্যমে আপনি আপনার ব্যান্ডকেও অনেকের কাছে জনপ্রিয় করে তুলতে পারবেন।

৫. কার্যকরী ফলোয়ার রাখাঃ

টুইটারের অনেক ফলোয়ার থাকলেই মার্কেটিং ভালো হয়ে যায় না। অনেক ফলোয়ারের চেয়ে কার্যকরী এবং টার্গেটেড ফলোয়ার থাকা বেশি লাভজনক। তাই শুধু ফলোয়ার বৃদ্ধির দিকে জোর না দিয়ে, যে ফলোয়ার রয়েছে তাদের উপর গুরুত্ব দিন। তাদেরকে এক্টিভ রাখার চেষ্টা করুন। তাদের সাথে বেশি বেশি যোগাযোগ রক্ষা করুন এবং কাস্টমারে পরিণত করার চেষ্টা করুন।

৬. ট্রেন্ড বোঝার চেষ্টা করুনঃ

মার্কেটিং এর ক্ষেত্রে ট্রেন্ড একটি গুরুত্বপূর্ন বিষয়। মার্কেটিং পরিকল্পনা থেকে শুরু করে সকল কার্যক্রম পরিচালনার ক্ষেত্রে ট্রেন্ডকে অনুসরণ করতে হয়। কোন ধরনের কন্টেন্ট ফলোয়াররা এখন বেশি পছন্দ করে, কি পোষ্ট করলে তা ফলোয়ারদের কাস্টমারে পরিণত করতে সাহায্য করে তা জানতে হবে।

টুইটারে আরেক ধরনের ট্রেন্ড রয়েছে। সেটা হল “#” ট্যাগ ট্রেন্ড। এই “#” ট্যাগ গুলোর সুবিধা নেয়া উচিত। তাই কখন কোন “#” ট্যাগ এর ট্রেড চলছে তা জানতে হবে। টুইটে সেই “#” ট্যাগ ব্যবহার করে অনেক ব্যক্তির নিকট টুইট পৌঁছানো সম্ভব। এর ফলে বিক্রয় বৃদ্ধি পায়, মার্কেটিং সফল হয়।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Help-Desk